স্মার্ট গ্লাস নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, তবুও বাজার দখলের পথে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো

বিশ্বজুড়ে নতুন প্রজন্মের “স্মার্ট গ্লাস” নিয়ে বিতর্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ক্যামেরাযুক্ত এআই স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ সামনে আসছে বারবার। তবে এসব সমালোচনার মধ্যেও আগামী কয়েক বছরে কোটি কোটি স্মার্ট গ্লাস বিক্রির আশা করছে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।

সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, সমুদ্রসৈকত, দোকান কিংবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা নারীদের কাছে গিয়ে কিছু ব্যক্তি কথোপকথন শুরু করছেন এবং অজান্তেই তাদের প্রতিক্রিয়া ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব ভিডিও ধারণে ব্যবহার করা হচ্ছে মেটার Ray-Ban স্মার্ট গ্লাস।

অনেক ভুক্তভোগী পরে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারছেন। কেউ কেউ অনলাইনে হয়রানিরও শিকার হচ্ছেন। যদিও জনসমক্ষে ছবি বা ভিডিও ধারণ অনেক দেশে আইনসিদ্ধ হওয়ায় আইনি প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক নারী বিবিসিকে জানান, নিজের গোপনে ধারণ করা ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলে ভিডিও পোস্টকারী তাকে জানায়, সেটি “পেইড সার্ভিস”।

বর্তমানে স্মার্ট গ্লাস বাজারে মেটার অবস্থান সবচেয়ে শক্তিশালী বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই বা স্মার্ট গ্লাস বিক্রির ৮০ শতাংশেরও বেশি অংশ এখন মেটার দখলে। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তারাই প্রথম এ ধরনের পণ্য ব্যাপকভাবে বাজারে আনে।

EssilorLuxottica-এর সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি Ray-Ban স্মার্ট গ্লাস দেখতে সাধারণ চশমার মতো হলেও এতে রয়েছে প্রায় অদৃশ্য ক্যামেরা, ছোট স্পিকার এবং তথ্য প্রদর্শন সক্ষম লেন্স। ব্যবহারকারী খুব সহজেই ফ্রেম স্পর্শ করে ছবি তুলতে বা ভিডিও ধারণ করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডিভাইসের ক্যামেরা এতটাই নজর এড়ানো যে অনেক সময় ব্যবহারকারীরাও বুঝতে পারেন না কখন রেকর্ডিং চালু হয়েছে বা সেই ভিডিও কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে।