ব্রিটেনে আবারও বাড়ছে জ্বালানি বিল, চাপে সাধারণ মানুষ

যুক্তরাজ্যে আবারও বাড়তে যাচ্ছে গ্যাস-বিদ্যুতের বিল। এতে আগে থেকেই জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া লাখো পরিবার নতুন করে চাপে পড়তে যাচ্ছে।

সরকারের কিছু নীতিগত পরিবর্তন ও কর সমন্বয়ের কারণে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে জ্বালানি বিলে সাময়িক স্বস্তি মিলেছিল। তবে নতুন পূর্বাভাস বলছে, আগামী জুলাই থেকেই আবার বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।

Ofgem-এর বর্তমান প্রাইস ক্যাপ অনুযায়ী, ডিরেক্ট ডেবিটে বিল পরিশোধকারী একটি সাধারণ পরিবারের বার্ষিক গড় জ্বালানি বিল এখন ১ হাজার ৬৪১ পাউন্ড।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জুলাই থেকে এই বিল ২০০ পাউন্ডেরও বেশি বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৮৫০ পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে।

Octopus Energy এবং Uswitch-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের শেষ দিকে বিল আরও বাড়তে পারে। শীতকালে তা প্রায় ১ হাজার ৯০০ পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

কেন বাড়ছে জ্বালানি বিল?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের উচ্চ মূল্য এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো আধুনিকীকরণের খরচ—এই দুই কারণ মূলত নতুন মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী।

২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে পাইকারি গ্যাসের দাম এখনো আগের চেয়ে অনেক বেশি। যেহেতু ব্রিটেনে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ এখনো গ্যাসনির্ভর, তাই বিশ্ববাজারের অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি গ্রাহকের বিলে পড়ছে।

এছাড়া দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস নেটওয়ার্ক আধুনিক করার জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ চলছে। Energy UK জানিয়েছে, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি অংশও সাধারণ গ্রাহকদের বিলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

বাড়ছে ‘ফুয়েল পভার্টি’

ক্রমাগত বিল বৃদ্ধির ফলে লাখো পরিবার এখন “ফুয়েল পভার্টি” বা জ্বালানি দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে।

National Energy Action-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ৬০ লাখের বেশি পরিবার আয়ের বড় অংশ শুধু ঘর গরম রাখা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ব্যয় করছে। ফলে খাদ্য ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রিটেনের অনেক বাড়ির জ্বালানি দক্ষতা এখনো কম হওয়ায় শীতকালে মানুষের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।

কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে ফিক্সড ট্যারিফের সুযোগ যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতের মূল্যবৃদ্ধি থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়।

এছাড়া যারা বিল পরিশোধে সমস্যায় পড়ছেন, তাদের দ্রুত নিজ নিজ জ্বালানি কোম্পানির সহায়তা তহবিলের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

British Gasসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান জরুরি আর্থিক সহায়তা ও গ্রান্ট সুবিধাও দিয়ে থাকে।

এখন সবার নজর অফজেমের ঘোষণায়

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার সাময়িক কিছু পদক্ষেপ নিলেও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও অবকাঠামোগত ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষের চাপ কমছে না।

আগামী ২৭ মে Ofgem নতুন প্রাইস ক্যাপ ঘোষণা করবে। এখন সেই ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা ব্রিটেন।