যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বিরল এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন স্টুডেন্ট ভিসাধারী এক নবনির্বাচিত এমপি। স্কটল্যান্ডের Edinburgh and Lothians East অঞ্চল থেকে Scottish Green Party-এর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন Q Manivannan। তবে নির্বাচনের পরই তার ভিসা স্ট্যাটাস নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক।
বিরোধী Conservative Party দাবি করেছে, স্টুডেন্ট ভিসায় থেকে একজন এমপি পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করা অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এ নিয়ে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্তও দাবি করেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত যেভাবে
যুক্তরাজ্যের বর্তমান আইনে বৈধভাবে বসবাসরত কমনওয়েলথ দেশের নাগরিকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। সেই সুযোগেই নির্বাচনে লড়েন কিউ মণিভান্নান।
তবে মূল প্রশ্ন উঠেছে তার স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত নিয়ে। যুক্তরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। সমালোচকদের দাবি, একজন এমপি বা এমএসপির দায়িত্ব কার্যত পূর্ণকালীন চাকরির মতো, যা এই সীমার মধ্যে সম্ভব নয়।
কনজারভেটিভদের অভিযোগ
স্কটিশ কনজারভেটিভ নেতা Stephen Kerr অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও হয়তো ভিসার কর্মঘণ্টার সীমা অতিক্রম করা হয়েছে।
তার ভাষায়, “আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। একজন আইনপ্রণেতা নিজেই যদি অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে সেটি গুরুতর বিষয়।”
মণিভান্নানের জবাব
সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিউ মণিভান্নান। তিনি বলেন, তিনি বৈধভাবেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং কোনো আইন ভঙ্গ করেননি।
তার দাবি, স্কটল্যান্ডের রাজনৈতিক দলগুলো আগেই এমন আইন সমর্থন করেছিল, যাতে বৈধ ভিসাধারীরাও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন।
মণিভান্নান আরও জানান, তার বর্তমান স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ চলতি বছরের শেষ দিকে শেষ হবে। এরপর তিনি Graduate Visa এবং পরে Global Talent Visa-এর জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন।
একই সঙ্গে তিনি ব্রিটেনের বর্তমান অভিবাসন ব্যবস্থাকে “জটিল ও অমানবিক” বলে সমালোচনা করেন এবং একজন অভিবাসী হিসেবে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাকে গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
সামনে কী হতে পারে?
এখন পর্যন্ত Home Office এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি বেশ জটিল এবং নজিরবিহীন।
যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ভিসার শর্ত ভঙ্গ হয়েছে, তাহলে তার ভিসা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অন্যদিকে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও ভিসাধারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সীমা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
