২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যাপক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে সিম কর প্রত্যাহার, স্থানীয় উৎপাদনে কর ছাড় এবং দেশব্যাপী ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হলো মোবাইল সিম কার্ডের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার। অর্থমন্ত্রী জানান, সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল সেবা আরও সহজলভ্য করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব ছাড় দিতে হবে। তবে সিমের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল থাকবে। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে গ্রাহকরা আগের তুলনায় কম খরচে সিম কিনতে পারবেন।
স্থানীয় মোবাইল ফোন উৎপাদন শিল্পকে উৎসাহিত করতে ২২টি কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম কর ৫ ও ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এর ফলে দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের দাম আরও কমবে এবং প্রযুক্তিপণ্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে।
এছাড়া মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবায় উৎসে কর ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে কলরেট ও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যয় কমতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য চার্জের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের লক্ষ্য দেশের ৯০ শতাংশ জনগণকে ৫জি ইন্টারনেট সেবার আওতায় আনা এবং ন্যূনতম ১০০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড গতি নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৪১ লাখ নতুন ৪জি সংযোগ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন, ট্রেন ও বিমানবন্দরগুলোতে সর্বসাধারণের জন্য বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে, প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমবে এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনের পথে বাংলাদেশ নতুন গতি পাবে।
