যুক্তরাজ্যের নটিংহামশায়ারের একটি পার্কে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আশ্রয়প্রার্থী শেরাড মালিককে (২৬) ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সাজা শেষে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাকে লাইসেন্সের আওতায় পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে নটিংহামশায়ারের সাটন লন পার্কে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় ভুক্তভোগী তরুণী অত্যন্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তার অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে শেরাড মালিক যৌন হামলা চালায়।
মামলার শুনানিতে জানা যায়, তরুণী প্রতিরোধের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তাকে মুখমণ্ডল ও মাথায় একাধিকবার আঘাত করে। এ ঘটনার ফলে ভুক্তভোগী গুরুতর মানসিক আঘাতের শিকার হন এবং তার জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, এটি ছিল অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ, যেখানে অসহায় অবস্থার সুযোগ নেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার অপরাধের জন্য কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। বরং বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে তার আচরণে আত্মপক্ষ সমর্থন ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে।
বিচারকের ভাষ্য অনুযায়ী, শেরাড মালিকের মধ্যে নারীদের প্রতি অবমাননাকর মনোভাব ও বিকৃত মানসিকতার প্রতিফলন রয়েছে, যা তাকে সমাজের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিতে পরিণত করেছে।
তদন্তে জানা যায়, পাকিস্তানের নাগরিক মালিক ইউরোপের বিভিন্ন দেশ হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে ফ্রান্সে যান, পরে জার্মানি ও ইতালি অতিক্রম করে যুক্তরাজ্যে এসে আশ্রয়ের আবেদন করেন। ঘটনার সময় তার আশ্রয়প্রার্থীর মর্যাদা বহাল ছিল।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেন, ভুক্তভোগীর সাহসিকতার কারণেই অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়েছে। তারা যৌন সহিংসতার শিকার অন্যদেরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধীর পরিচয় বা অভিবাসন-অবস্থা যাই হোক না কেন, যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। এ রায়ের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, অসহায় ব্যক্তির প্রতি যৌন সহিংসতা ও বলপ্রয়োগের মতো অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
সূত্র: আইটিভি নিউজ
