যুক্তরাজ্যে ১০৮তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তাদের আহ্বান
লন্ডন | কে এম আবু তাহের চৌধুরী:
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদা প্রদান এবং তাঁর বীরত্বগাঁথা জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২ সেপ্টেম্বর বুধবার বঙ্গবীর ওসমানী মেমোরিয়েল ফাউন্ডেশন ইউকে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা এ দাবি জানান। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল রোডের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি ও যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আলহাজ্ব কবির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খান জামাল নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি কে এম আবু তাহের চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) মঈন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক এম এ মান্নান, মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক বকশি ইকবাল আহমদ, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক কাউন্সিলার ব্যারিস্টার নাজির আহমদ।

সভায় বঙ্গবীর ওসমানীর জীবন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নেতৃত্ব এবং সামরিক অবদান নিয়ে বক্তব্য রাখেন দর্পণ টিভির সিইও ও বিশিষ্ট সাংবাদিক রহমত আলী, ব্রিকলেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক শাহ মুনিম, সাবেক কাউন্সিলার ও কমিউনিটি নেতা ওসমান গনি, বিশিষ্ট লেখক ও সলিসিটর মোহাম্মদ ইয়াওর উদ্দিন, সংগঠনের সহ-সভাপতি শেখ মো. মফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি আমীর উদ্দিন আহমদ মাস্টার, ট্রেজারার সৈয়দ সুহেল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ফারুক মিয়া, ওসমানী বিমানবন্দর ক্যাম্পেইন কমিটির সদস্য সচিব এম এ রব, ব্রিটিশ বাংলাদেশী টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের ট্রেজারার শিক্ষক মিসবাহ কামাল, জকিগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, নবীগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুল হাই, বিশিষ্ট আইনজীবী আমিন চৌধুরী ও হাজী বুলু মিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ জিলু খান। বঙ্গবীর ওসমানীর রুহের মাগফিরাত কামনা এবং সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে আলোচনা ও কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা হাসান নূরী চৌধুরী। বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ সালেহ আহমদ।
বক্তারা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে স্মরণ করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তাঁরা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী ‘কমান্ডার ইন চিফ’ হিসেবে দীর্ঘ নয় মাস রণাঙ্গনে অসাধারণ নেতৃত্ব দেন। তাঁর প্রজ্ঞা, রণকৌশল, সাহসিকতা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।
বক্তারা আরও বলেন, জেনারেল ওসমানী ছিলেন বাঙালি জাতির গর্ব, একজন দক্ষ সমরবিদ এবং সাহসী সেনানায়ক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে পাক-ভারত যুদ্ধেও তাঁর সামরিক দক্ষতা ও বীরত্বের পরিচয় দেন। স্বাধীনতার পর তিনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আজীবন সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবীর ওসমানীর জীবন, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে বাংলাদেশের সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচিতে তাঁর জীবনী ও অবদান অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি প্রতি বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শিরনি বিতরণ করা হয়।
