অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে যৌথ পদক্ষেপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বার্নহাম-ম্যাক্রোঁর

ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ঠেকাতে ফ্রান্সের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

বৃহস্পতিবার লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে দুই নেতার বৈঠকে চ্যানেল পাড়ি দেওয়া ঠেকানোর চলমান উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের যৌথ কার্যক্রমে ইতোমধ্যে অগ্রগতি হয়েছে। এখন সেই সাফল্য ইউরোপজুড়ে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। 

অভিবাসী পাচারকারীদের নতুন কৌশল মোকাবিলায় ফ্রান্সের পশ্চিম উপকূলে অতিরিক্ত ৪৫ সদস্যের একটি বিশেষ পুলিশ দল মোতায়েন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্র শনাক্ত, তাদের কার্যক্রম ব্যাহত এবং বিচারের আওতায় আনতে ফরাসি বিশেষ গোয়েন্দা ও বিচারিক ইউনিটের সদস্যসংখ্যা ১৮ থেকে বাড়িয়ে ৩০ করা হয়েছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে পাচারকারীরা তুলনামূলক বড় নৌযান বা ‘মেগা ডিঙ্গি’ ব্যবহার করে একসঙ্গে বেশি মানুষ চ্যানেল পার করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যগতভাবে ক্যালের আশপাশের বদলে ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলের নতুন নতুন উপকূল থেকে নৌকা ছাড়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। ফলে যৌথ নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

বৈঠকের পর বার্নহাম বলেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সহযোগিতা কী অর্জন করতে পারে, ছোট নৌকা, ইউক্রেন এবং যুক্তরাজ্য-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, মানবপাচারকারী চক্রগুলো তাদের কৌশল নিয়মিত পরিবর্তন করছে, তাই দুই দেশকে তাদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে হবে। 

ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় অভিবাসী আগমনের সংখ্যা ২০২০ সালের পর সবচেয়ে কম পর্যায়ে নেমেছে। তবে সরকার বলছে, এই অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট হয়ে থেমে থাকার সুযোগ নেই। 

ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বার্তা

বৈঠকে ছোট নৌকার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। ব্রেক্সিটের পর ইউরোপের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বার্নহাম তাঁর সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘Made in Europe’ নীতির কারণে ব্রিটিশ শিল্পের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা হয়। 

এ ছাড়া ইউক্রেনে দূরপাল্লার SCALP ক্ষেপণাস্ত্রের স্থানীয় উৎপাদন ও অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপনের বিষয়েও দুই নেতা আলোচনা করেন। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের পশ্চিম তীরের E1 এলাকায় নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনাও আলোচনায় আসে। বার্নহাম ওই পরিকল্পনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন। 

ম্যাক্রোঁর এই সফরটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বার্নহামের প্রথম কোনো বিদেশি নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এর মাধ্যমে লন্ডন-প্যারিস সম্পর্ক এবং ব্রিটেনের ইউরোপমুখী নতুন কূটনৈতিক অবস্থানের ওপরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পড়ছে।

সূত্র বিবিসি