রিপোর্ট: মাহবুব হোসাইন, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ৭নং সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের ইসলামপুর (ব্রাহ্মণগাঁও) গ্রাম আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে। গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায় জড়িত কুখ্যাত নজরুল ইসলাম বর্তমানে ১০ বছরের সাজা ভোগ করছেন। কিন্তু তার সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকরা প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে গ্রামটিকে আবারও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রামে আবারও সন্ত্রাসের হুমকি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নজরুল ইসলামের সহযোগীরা তার নাম ব্যবহার করে গ্রামে ভয়ভীতি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে। সম্প্রতি গ্রামের জমি-বিবাদ ও সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে ৯ অক্টোবর ২০২৫, বৃহস্পতিবার একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বৈঠক শুরুর আগে নজরুলের সহযোগীরা সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে বৈঠক পণ্ড করে দেয়।
গ্রামবাসীরা জানান, বর্তমানে তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে গ্রামে মহড়া দিচ্ছে। এতে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে তারা।
নজরুল ইসলামের অপরাধ ইতিহাস
নজরুল ইসলাম ইসলামপুর (ব্রাহ্মণগাঁও) গ্রামের মৃত ওয়ারিশ উল্লার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
তিনি শুধু ইসলামপুর নয়, পুরো সিলেট বিভাগেই চিহ্নিত এক সশস্ত্র ডাকাত হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি, খুন, ছিনতাই ও অস্ত্র মামলার অভিযোগ রয়েছে।
এর আগেও তিনি একাধিকবার জেল খেটেছেন এবং প্রতিবার মুক্তির পর পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
গ্রেফতার ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি
২০২৫ সালের ৮ মার্চ, শনিবার গ্রামবাসীরা নজরুল ইসলামের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে একটি বৈঠক ডাকেন। সেই বৈঠকে নজরুল ইসলাম প্রকাশ্যে হুমকি ও গালাগাল করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানায়, নজরুল ইসলামকে দীর্ঘদিন ধরে খোঁজা হচ্ছিল, এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
তবে বর্তমানে জেলে থেকেও নজরুল ইসলাম তার সহযোগীদের মাধ্যমে গ্রামবাসীদের হুমকি দিচ্ছে, কেউ যদি তার দলের বিরুদ্ধে কথা বলে বা আইনি পদক্ষেপ নেয়, তবে সে “এক এক করে দেখে নেওয়ার” হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রামবাসীর আতঙ্ক ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
নিরীহ গ্রামবাসীরা এখন চরম ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, একটি অসাধু মহল এসব সন্ত্রাসীদের গোপনে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।
গ্রামবাসীরা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তারা বলেন, যদি এখনই প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ইসলামপুর (ব্রাহ্মণগাঁও) গ্রামে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।