সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে স্থানীয় একটি সালিশি বৈঠক বানচাল করতে কুখ্যাত নজরুল ডাকাত গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ১৩ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল তিনটার দিকে সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের ইসলামপুর (ব্রাহ্মণগাও) গ্রামের মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন আতাউর রহমান, যাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমওজি ওসমানী মেডিকেল হসপিটালে চিকিৎসাধীন। আহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন আইন উদ্দিন, আব্দুল হাসিম, আহাদুর রহমান, আবু তাহের, বদর উদ্দিন, সুহান, বাবুল আহমদ ও ফয়েজ উদ্দিন। এঘটনায় আহত হয়েছেন বুধরাইল গ্রামের সালিশ ব্যাক্তিত্ব সুনুর মিয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমানসহ আরও অনেকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাধারণ আহতদের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, আর গুরুতরদের পাঠানো হয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আতাউর রহমানের মাথায়, কানে এবং চোখে গুরুতর আগাত করা হয়েছে তার অবস্থা আশংকাজনক ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কোনো সালিশি বৈঠক না হওয়ায় নানা সমস্যা জমে উঠেছিল। গত ৯ অক্টোবর আবুল বশর নামে এক বাসিন্দার বাড়িতে একটি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলে নজরুল ডাকাত গোষ্ঠী হুমকি দিয়ে তা বন্ধ করে দেয়। পরদিন বিকল্প হিসেবে গ্রামের মাদ্রাসায় বৈঠক বসে—সেখানেই হামলা চালানো হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, নজরুল ডাকাত বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের আশঙ্কা, সালিশি বৈঠক চালু হলে এসব অনিয়ম প্রকাশ্যে আসবে, তাই বৈঠক ঠেকাতেই তারা সহিংস পথে নেমেছে।
স্থানীয়রা জানান, আগেও একাধিকবার অত্র এলাকার বিশিষ্ট সালিশ ব্যক্তিত্ব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সালিশি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু একই গোষ্ঠীর বাধায় তা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনায় এলাকায় আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও নজরুল ডাকাত বর্তমানে ১০ বছরের সাজাভোগ করছে, তার সহযোগীরা এখনো সক্রিয় বলে অভিযোগ।
গ্রামবাসী বলছেন, তারা এখন ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন—ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হোক এবং আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।