ব্রিটেনের নাগরিকত্ব বাতিলের ঝুঁকিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ ৯০ লাখ মানুষ

ব্রিটেনের নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারের ‘চরম ও গোপন’ ক্ষমতা সম্প্রসারণের প্রস্তাবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম কমিউনিটির লাখো মানুষ গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন—এমন সতর্কতা দিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

রানিমিড ট্রাস্ট ও রিপ্রিভের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদ্যমান আইনি ক্ষমতার আওতায় যুক্তরাজ্যের প্রায় ৯০ লাখ মানুষ—যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ—নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে যাদের দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার সঙ্গে পারিবারিক বা বংশগত সম্পর্ক রয়েছে, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকেই ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে ‘জনস্বার্থে’ দ্বৈত নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে। ২০১৪ সালে এই ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়, যেখানে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব না থাকলেও বিদেশে জন্ম নেওয়া ব্রিটিশ নাগরিকদের রাষ্ট্রহীন করার সুযোগ রাখা হয়।

এ অবস্থায় প্রস্তাবিত নতুন বিলটি পাস হলে সরকারের ক্ষমতা আরও বিস্তৃত হবে। খসড়া বিলের ৯টি ধারায় বলা হয়েছে, সরকার প্রয়োজনে কোনও নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়াই নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারবে।

২০১১ সালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রিটেনে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া দুই লাখ ১২ হাজারের বেশি ব্রিটিশ নাগরিক বসবাস করেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এই আইন কার্যকর হলে তাদের একটি বড় অংশের নাগরিকত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি আইনজীবী বলেন, “নোটিশ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়াই নাগরিকত্ব বাতিল মানবাধিকারের পরিপন্থি। এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করবে এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক।”

এ বিতর্কিত বিলটি যাতে পাস না হয়, সে লক্ষ্যে ব্রিটেনে বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি সংগঠন সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করেছে। তারা হাউজ অব কমন্স ও হাউজ অব লর্ডসের আইনপ্রণেতাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরে আইনটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে।