৬ ডিসেম্বর সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে আন্দোলনের শরিক ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও সেদিনই রাজনীতির অঙ্গনে নতুন চমক দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। বেলা ১১টার দিকে বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছে তিনি ছুটে যান বালাগঞ্জের গহরপুরে। সেখানে আল্লামা নুরউদ্দিন গহরপুরী (রহ.) স্মৃতি বিজড়িত মাদ্রাসায় এক সুধী সমাবেশে যোগ দেন তিনি।
এই সমাবেশেই আল্লামা গহরপুরী (রহ.)-এর পুত্র ও মাদ্রাসার বর্তমান মুহতামিম মুসলেহ উদ্দিন রাজু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগ দেন। যোগদানের পরপরই মাওলানা মামুনুল হক তাকে সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেন। যদিও এর আগে একই আসনে অন্য একজনকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল, তবে দলীয় প্রধানের এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত মেনে নেন দলীয় নেতারা।
এদিকে সিলেট-৩ আসনকে কেন্দ্র করে ৮ দলের মধ্যে চূড়ান্ত আসন ভাগবাটোয়ারা এখনো ঝুলে আছে। দলীয় সূত্র জানায়, এ আসনে বিএনপির ভেতরেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিককে প্রার্থী ঘোষণার ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জটিল হয়েছে। এতে প্রতিপক্ষ জোটের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও জয়ের আশা তৈরি হয়েছে।
আসনটিতে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন জামায়াত নেতা মাওলানা লোকমান আহমদ, যিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান। গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে মাঠে সক্রিয় থাকা এই নেতার দক্ষিণ সুরমা ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় শক্ত ভোটব্যাংক রয়েছে। জামায়াতের পর খেলাফত মজলিসকে শক্ত অবস্থানে থাকা দল হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে দলটির প্রার্থী ছিলেন জেলার সাধারণ সম্পাদক দিলওয়ার হোসেন।
তবে এসব হিসাব-নিকাশের মাঝেও সিলেট-৩ আসনে মুসলেহ উদ্দিন রাজুকে প্রার্থী করার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট নগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলম জানান, ঢাকায় অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় শূরা বৈঠকেও এ আসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং খেলাফত মজলিসই আসনটি পাবে বলে তারা আশাবাদী। তিনি বলেন, সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে একটি আসনই দলটি চেয়েছে।
অন্যদিকে সুনামগঞ্জ-৩ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর) আসনেও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি ও দলটির নায়েবে আমীর এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশাকে চাইছেন মামুনুল হক। তবে ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণে ৮ দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে প্রার্থী করতে অনীহা প্রকাশ করছে শরিক দলগুলো।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারা দাবি করছেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের চাপে শাহীনুর পাশা নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি নির্যাতনের শিকার হন। দলের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ বলেন, সিলেট-৩ ও সুনামগঞ্জ-৩—এই দুটি আসনে খেলাফত মজলিসের জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেট অঞ্চলে দলটির শক্তিশালী ভোটব্যাংক থাকায় সমর্থন পেলে এই দুই আসনে তারা চমক দেখাতে পারে।
সব মিলিয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন নিয়ে ৮ দলের ভেতরে দরকষাকষি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, আর এতে সবচেয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক।