কলকাতায় ইসলামোফোবিয়ার নতুন নজির, পরীক্ষাকক্ষে মুসলিম ছাত্রীদের অপমানের প্রতিবাদ
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বারবার কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করলেও, খোদ ভারতেই সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। মুসলিম, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য ও হেনস্তার তালিকায় এবার যুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের পরীক্ষাকক্ষে হিজাব পরিহিত দুই মুসলিম ছাত্রীকে আলাদাভাবে তল্লাশি ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, পরীক্ষার সময় একটি হেডফোন সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধুমাত্র হিজাব পরার কারণে ওই দুই ছাত্রীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভুলবশত আনা হেডফোন জব্দ করার পর বিভাগীয় প্রধান শাশ্বতী হালদার পুরো ক্লাসে নজর বুলিয়ে বিশেষ তল্লাশির জন্য কেবল একজন হিজাবধারী ছাত্রীকে নির্বাচন করেন। তিনি প্রকাশ্য কক্ষে হিজাব খুলতে নির্দেশ দেন, যা নিয়ে ছাত্রীটি চরম অস্বস্তিতে পড়েন। সহপাঠীদের হস্তক্ষেপে পরে তাকে আলাদা কক্ষে নিয়ে তল্লাশি করা হলেও কোনো নিষিদ্ধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি।
অন্য একটি পরীক্ষাকক্ষে একই ধরনের ঘটনার শিকার হন আরেক হিজাবধারী ছাত্রী। অভিযোগ রয়েছে, তাকে ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে হিজাব খুলে তল্লাশি করা হয় এবং এ সময় অবমাননাকর ও ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা হয়। ফলে পরীক্ষার মূল্যবান সময় নষ্ট হলেও অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি।
ঘটনার প্রতিবাদে কনভোকেশনের দিন একদল ছাত্রী পোস্টার হাতে বিক্ষোভ করেন। পোস্টারে লেখা ছিল— ‘মাই বডি, মাই চয়েস’ এবং ‘সে নো টু ইসলামোফোবিয়া’। শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদার ও প্রগতিশীল ঐতিহ্যের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সহপাঠীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন। তারা বলেন, একই কক্ষে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা হুডি, সোয়েটার ও কোট পরলেও কাউকে তল্লাশি করা হয়নি—শুধু মুসলিম পরিচয়ের ভিত্তিতে দুই ছাত্রীকে আলাদা করে হেনস্তা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়ার প্রতিফলন, যা ইতোমধ্যে উত্তর প্রদেশ, বিহার ও কর্নাটকের মতো রাজ্যগুলোর সঙ্গে তুলনীয় হয়ে উঠছে। এর আগে বিহারে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দ্বারা এক হিজাব পরিহিত নারী চিকিৎসকের হেনস্তার ঘটনাও দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুদের প্রতি এ ধরনের আচরণ মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।