পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তন: মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়া, ৯০-এর আন্দোলনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব অন্তর্ভুক্ত

অনলাইন ডেস্ক: নতুন শিক্ষাবর্ষ ২০২৬-এর জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রকাশিত পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক পরিবর্তন ও পরিমার্জন আনা হয়েছে। সংশোধিত পাঠ্যবইয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা, একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে উত্তরণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

এনসিটিবির পাঠ্যবই সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত একজন বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সুপারিশ অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে দেশের শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস আরও বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্যবইয়েও প্রয়োজনীয় পরিমার্জন আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশোধিত বইগুলো প্রকাশ ও অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে।

এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবারের পাঠ্যবইয়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও ঘটনাপ্রবাহ গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে।

এনসিটিবি কর্মকর্তারা জানান, ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব এবং শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে স্বাধীনতার ঘোষণার অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অপারেশন সার্চলাইটের পর নেতৃত্বশূন্য পরিস্থিতিতে মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরদিন তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জনগণের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রবল উদ্দীপনা ও প্রতিরোধের অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেন।

নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণাকালে শহীদ জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে তার একটি ছবিও সংযোজন করা হয়েছে। একই অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাকশাল প্রতিষ্ঠার ফলে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থেমে যায় এবং ১৯৭৯ সালে শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু হয়।

পাঠ্যবইয়ে কৃষি ও অর্থনীতিতে শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদানও তুলে ধরা হয়েছে। খাল খনন কর্মসূচি, ফসল বহুমুখীকরণ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সূচনার মাধ্যমে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প বিকাশের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়েছে, তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। পরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয় এবং একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন পাঠ্যবইয়ের এই পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পর্কে আরও বিস্তৃত ও সমন্বিত ধারণা লাভ করবে।