ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিপুল পরিমাণে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করছে, যা প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন ব্রিটিশ রাজনীতিক নাইজেল ফারাজ। ক্রিপ্টো বিশ্লেষণ সংস্থা এলিপটিকের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৫০ কোটি ৭০ লাখ ডলারের টেথার (Tether) স্টেবলকয়েন এমন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে, যেগুলো ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ধারাবাহিকভাবে টেথার সংগ্রহ করছে। টেথার একটি স্টেবলকয়েন, যা মার্কিন ডলারের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সহজেই নগদ বা অন্যান্য শক্ত মুদ্রায় রূপান্তর করা যায়। এলিপটিকের বিশ্লেষকদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে পাশ কাটানোর একটি সুপরিকল্পিত কৌশল হতে পারে। এর মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চালানো বা নিজেদের মুদ্রা রিয়ালের মান ধরে রাখার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে বিক্ষোভ দমনে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানি সরকারের টেথার ব্যবহারের অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নাইজেল ফারাজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যিনি টেথারকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছেন।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ফারাজ জানান, তিনি ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলির সঙ্গে বৈঠকে টেথার নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা করছেন। এলিপটিকের প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেই অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এ বিষয়ে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা টেথার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
Source: The Guardian
