নিউজ রিপোর্ট: চীন জানিয়েছে, কানাডার সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি কোনো তৃতীয় দেশ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা যদি বেইজিংয়ের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করে, তাহলে কানাডীয় পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর এ মন্তব্য আসে।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, কানাডা ও চীনের মধ্যে গড়ে ওঠা নতুন “কৌশলগত অংশীদারত্ব” কোনো তৃতীয় পক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য নয়। তিনি বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের জনগণের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা করে এবং পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার একটি উদাহরণ।
এর আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে কানাডাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চীনের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি হলে কানাডার পণ্যের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, চীন কানাডাকে “সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার” চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্পষ্ট করে বলেন, কানাডা চীনের সঙ্গে কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করছে না এবং কখনোই তা বিবেচনা করেনি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে কানাডার অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে।
কার্নি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (ইউএসএমসিএ) অনুযায়ী কোনো অ-বাজার অর্থনীতির দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পরিকল্পনা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে তা আগে জানাতে হয়। “এ ধরনের কোনো উদ্যোগ থাকলে আমরা নোটিশ দিতাম এবং পুরো প্রক্রিয়াটি হতো স্বচ্ছ,” বলেন তিনি।
ওটাওয়া ও বেইজিংয়ের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, চীন কানাডার ক্যানোলা তেলের ওপর শুল্ক ধাপে ধাপে কমিয়ে আগামী মার্চের মধ্যে ১৫ শতাংশে নামাবে, যা আগে ছিল ৮৫ শতাংশ। অপরদিকে, কানাডা সীমিত সংখ্যক চীনা বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপর সর্বাধিক সুবিধাভোগী দেশের (এমএফএন) হারে ৬ দশমিক ১ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে, যা আগে ছিল ১০০ শতাংশ।
ট্রাম্পের এই শুল্ক হুমকি কানাডায় অনেককে বিস্মিত করেছে, কারণ এর আগে তিনি কানাডা-চীন চুক্তিকে “ভালো বিষয়” বলেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গত সপ্তাহে দাভোসে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং মধ্যম শক্তিগুলোর উচিত বড় শক্তির অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় একজোট হওয়া।
ট্রাম্প এর জবাবে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা টিকে আছে,” এবং কার্নির শান্তি বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণও প্রত্যাহার করেন।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, কানাডা যদি চীনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার মাধ্যম হয়ে ওঠে, তাহলেই এই শুল্ক হুমকি কার্যকর হবে। কার্নি মন্তব্য করেন, আসন্ন ইউএসএমসিএ পর্যালোচনাকে সামনে রেখে ট্রাম্পের এই বক্তব্য আলোচনার কৌশলের অংশ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী কার্নি আবারও জোর দিয়ে বলেন, কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাণিজ্য বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে।
সূত্র বিবিসি
