ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিল: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর আরোপিত বিস্তৃত বৈশ্বিক শুল্কের একটি বড় অংশ বাতিল করে দিয়েছে। ৬–৩ ভোটে দেওয়া এ রায়ে আদালত বলেছে, ট্রাম্প যে আইনের আওতায় শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা তাঁকে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দেয় না।

এ রায়ের ফলে সম্ভাব্যভাবে শত শত বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরতের পথ খুলে গেছে। এতে শুল্কের বিরুদ্ধে মামলা করা ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের জন্য বড় আইনি জয় এসেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা দেওয়া ১৯৭৭ সালের আইনের অধীনেই এসব শুল্ক আরোপ বৈধ ছিল। কিন্তু মামলাকারীদের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, ওই আইনে “শুল্ক” আরোপের ক্ষমতার কোনো উল্লেখ নেই এবং কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে কর আরোপ বা বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের মতো বিস্তৃত ক্ষমতা দিতে চায়নি।

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে বলেন, কংগ্রেস যখন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দিয়েছে, তখন তা স্পষ্ট ভাষা ও কঠোর সীমারেখার মধ্যেই দিয়েছে। তিনি লেখেন, “কংগ্রেস যদি শুল্ক আরোপের মতো অসাধারণ ক্ষমতা দিতে চাইত, তবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করত—যেমনটি অন্যান্য শুল্ক আইনে করেছে।”

গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের ওপর শুল্ক আরোপ করে এবং পরে এপ্রিলের তথাকথিত “লিবারেশন ডে” ঘোষণায় প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর তা সম্প্রসারণ করে। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, মাদক পাচার ও বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার মতো জরুরি পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় এসব শুল্ক প্রয়োজন এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়বে।

তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানিতে আকস্মিক করবৃদ্ধির কারণে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং এসব শুল্কে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বাড়বে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, আদালতের তিন উদারপন্থী বিচারপতির পাশাপাশি ট্রাম্প মনোনীত দুই বিচারপতি—অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গোরসাচ—রায়টির পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ছিলেন বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, ব্রেট ক্যাভানো ও স্যামুয়েল আলিটো।

এই মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা সম্প্রসারণের বৃহত্তর প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। রায়টি প্রেসিডেন্টের বাণিজ্যনীতি ও জরুরি ক্ষমতা ব্যবহারের সীমা নিয়ে ভবিষ্যৎ বিতর্কে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

SOURCE BBC