রমজানে মসজিদমুখী তারুণ্য: মালয়েশিয়ায় নতুন আশার দিগন্ত

আহমাদুল কবির | মালয়েশিয়া:

মালয়েশিয়ায় পবিত্র রমজানকে ঘিরে মসজিদভিত্তিক তারুণ্যের জাগরণে শুরু হয়েছে এক অনন্য উদ্যোগ। দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান, আলহামদুলিল্লাহ—২২ ফেব্রুয়ারি কুয়ালালামপুরের জালান দুতায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মসজিদ উইলাইয়া পারসাকোতান প্রাঙ্গণে আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও “রাকান মসজিদ এক্স রাকান মুদা রমাদান” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসাতিজা ও তরুণদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর।
এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের উদ্যোগ নেয় জাবাতান কেমাজুয়ান ইসলাম মালয়েশিয়া (জাকিম) এবং কেমন্ত্রীয়ান বেলিয়া দান সোকান। সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজানকে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্মকে মসজিদমুখী করার এই প্রয়াস সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার আলোয় আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তুলতেই এ সমন্বিত উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিভাগের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রীর পারস্পরিক সমন্বয়ের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, রমজান কেবল সংযমের মাস নয়—এটি আত্মশুদ্ধি, নৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক সংহতির এক অনন্য মাদরাসা। তরুণদের বিভেদমুখী ইস্যু থেকে দূরে রেখে তাকওয়ার চেতনায় গড়ে তোলাই হওয়া উচিত সময়ের অঙ্গীকার।
জ্ঞান ও শিক্ষার প্রসঙ্গে এক অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরা হয়। ফজরের নামাজের পর নাতির সঙ্গে আলাপচারিতায় পবিত্র কুরআনের সূরা আবাসার শিক্ষা স্মরণ করা হয়। এ সূরায় মহান আল্লাহ রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সতর্ক করেন, যখন তিনি ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবন উম্মে মাকতুম (রা.)-এর প্রতি সাময়িকভাবে মনোযোগ না দিয়েছিলেন।


সূরা আবাসার প্রথম চার আয়াতে বলা হয়েছে—
“তিনি ভ্রুকুটি করলেন ও মুখ ফিরিয়ে নিলেন, কারণ তাঁর কাছে এক অন্ধ ব্যক্তি এসেছিল। আর আপনি কী করে জানবেন, হয়তো সে আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে এসেছে কিংবা উপদেশ গ্রহণ করতে চায়, যাতে তা তার উপকারে আসে।” (সূরা আবাসা: ১-৪)
এই ঘটনার শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের প্রতি সংবেদনশীল হওয়াই প্রকৃত মানবিকতা। সামাজিক মর্যাদা নয়, আন্তরিকতা ও তাকওয়াই আল্লাহর কাছে প্রকৃত মূল্যবান।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার যেমন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে, তেমনি বিভ্রান্তির ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। তাই মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম, দীনী শিক্ষা ও নৈতিক দিকনির্দেশনা তাদের সঠিক পথে রাখার কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
ইফতার ও আলোচনা শেষে উপস্থিত তরুণদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশা। তারা জানান, এমন উদ্যোগ তাদের মসজিদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে এবং রমজানের চেতনাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়নে অনুপ্রাণিত করবে।
রমজানের এই মহিমান্বিত সময়ে মসজিদকেন্দ্রিক তারুণ্যের জাগরণ নিঃসন্দেহে বহন করছে ইতিবাচক বার্তা—ছোট কণ্ঠও আল্লাহর কাছে সম্মানিত হতে পারে, যদি তা সত্য ও তাকওয়ার পথে উচ্চারিত হয়।