সিলেটে ‘কৃষকের হাট’ চালু: সিন্ডিকেট ভাঙতে সরাসরি বিক্রির নতুন উদ্যোগ

লন্ডন বাংলা টাইমস | অনলাইন:
সিলেটে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হয়েছে ‘কৃষকের হাট’, যার লক্ষ্য বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা। জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে নগরের টিলাগড়ে সরকারি জায়গায় এই হাট চালু করা হয়।

শনিবার সকালে হাটটির উদ্বোধন করেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। উদ্বোধনের পর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে বাজারটি। দুপুরের মধ্যেই বেশিরভাগ কৃষকের পণ্য বিক্রি হয়ে যায়। প্রথম দিনে সিলেট নগর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ জন কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে অংশ নেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টিলাগড় পয়েন্টে এই হাট বসবে। এখানে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। এর ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে টাটকা পণ্য কিনতে পারবেন।

সদর উপজেলার মোগলাগাঁও এলাকার কৃষক উস্তার মিয়া জানান, আগে তারা মাঠেই পাইকারদের কাছে ফসল বিক্রি করতেন, ফলে কম দাম পেতেন। এখন সরাসরি বিক্রি করে ভালো লাভ হচ্ছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান টুকের বাজার থেকে আসা আরেক কৃষক, যিনি বলেন, এখানে কোনো দোকান ভাড়া দিতে হয় না, শুধু পরিবহন খরচেই পণ্য নিয়ে আসা যায়।

হাটে ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ছাড়াও মধু, ঘি ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য বিক্রি হচ্ছে। কম দামে টাটকা পণ্য পেয়ে সন্তুষ্ট ক্রেতারাও। চাকরিজীবী খালেদ আহমদ বলেন, বাজারে দাম কিছুটা কম এবং পণ্যের মান ভালো। আরেক ক্রেতা কয়েস উদ্দিন এই উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, এটি যেন দীর্ঘমেয়াদে চালু থাকে এবং শহরের আরও এলাকায় বিস্তৃত করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কৃষিপণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে দাম বাড়লেও কৃষক তার ন্যায্য অংশ পান না। নতুন এই হাট চালুর মাধ্যমে সেই চক্র ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বাজার আর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে না এবং এই ধারণা বাংলাদেশ থেকে দূর করা হবে। তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কৃষক বাজার চালু রয়েছে এবং বাংলাদেশেও তা বিস্তৃত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি জেলায় অন্তত সপ্তাহে একদিন করে এমন বাজার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, বাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি টিসিবির কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে, যদিও ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি কৃষককে এতে সম্পৃক্ত করা হবে। উল্লেখ্য, এই হাটে অংশ নিতে কৃষকদের কোনো ভাড়া দিতে হচ্ছে না।