ইরান–ইসরাইল উত্তেজনায় ঝুঁকিতে উপসাগরীয় অর্থনীতি, বিনিয়োগ টানতে তুরস্কের নতুন কৌশল

লন্ডন বাংলা টাইমস | অনলাইন:
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনায় ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিনিয়োগকারী ও বহুজাতিক সংস্থাগুলোকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করতে নতুন কৌশল নিচ্ছে তুরস্ক।

Middle East Eye-কে একটি সূত্র জানায়, তুরস্কের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, আঙ্কারা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য কর ছাড় ও অন্যান্য প্রণোদনা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এসব সুবিধা ইতোমধ্যেই Istanbul Financial Center-এ প্রস্তাব করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থিক কেন্দ্রসহ Abu DhabiDubai-এর আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ফলে সেখানকার কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম তুরস্কে সরিয়ে নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ব্যাংক, আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি স্টার্টআপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা এবং ডেটা সেন্টারের মতো নানা খাতের প্রতিষ্ঠান সক্রিয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে টানতে তুরস্ক বিশেষ করে Istanbul-কে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।

ইস্তানবুলকে দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে অবস্থিত আইএফসি-তে ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য রপ্তানি আয়ে করমুক্ত সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনে বিভিন্ন চার্জ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ কর্মীদের জন্য বিশেষ বেতন কর প্রণোদনাও রয়েছে, যেখানে বিদেশি কর্মীদের প্রকৃত বেতনের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর ছাড় দেওয়া হয়, তাদের কাজের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে।

Bloomberg জানিয়েছে, তুরস্ক সরকার এসব কর প্রণোদনা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদেশ থেকে কেনা পণ্য বিক্রি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে অর্জিত আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করমুক্ত রাখা হতে পারে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত World Economic Forum-এর এক বৈঠকে দেখা যায়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তুরস্ক নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। এ সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট Recep Tayyip Erdoğan বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪০ জন সিইওকে আপ্যায়ন করেন, যাদের কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত অর্থনৈতিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার।

এদিকে আইএফসি’র প্রধান নির্বাহী আহমেত ইহসান এরদেম রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান-ইসরাইল উত্তেজনার কারণে কিছু কোম্পানি আংশিকভাবে তাদের কার্যক্রম ইস্তানবুলে স্থানান্তর বা তুরস্কে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

তবে সংশয়ও কম নয়। একজন আন্তর্জাতিক ব্যাংকার Middle East Eye-কে বলেন, তুরস্কের বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা কম, পাশাপাশি উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও বাড়তে থাকা বাণিজ্য ঘাটতি বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের কারণ। এছাড়া আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন থাকায় অনেক ব্যবসায়ী এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তুর্কি কর্মকর্তা বলেন, ডেটা সেন্টার ও এআই কোম্পানিগুলোকে আকর্ষণ করতে হলে এসব উদ্বেগ দূর করতে কার্যকর আইনি সংস্কার জরুরি।