ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার দিনটি শুরু হয়েছিল তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে। পরিকল্পনা ছিল, ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance ইসলামাবাদে উড়ে যাবেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় এবং আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়।
এরপর প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো হবে, যা বুধবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। তিনি জানান, ইরানকে একটি “সমন্বিত প্রস্তাব” তৈরি করার জন্য অতিরিক্ত সময় দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দিনভর নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল হোয়াইট হাউস। ইরান আলোচনায় অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রও দ্বিধায় পড়ে যায়। একই সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের ইসলামাবাদ সফরও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মিয়ামি থেকে সরাসরি ইসলামাবাদে না গিয়ে ওয়াশিংটনে ফিরে আসেন, যা আলোচনা স্থগিতের ইঙ্গিত দেয়। পরে ভ্যান্সও হোয়াইট হাউসে নীতিনির্ধারণী বৈঠকে যোগ দেন।
অবশেষে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যারা দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
তবে এবার যুদ্ধবিরতির নতুন সময়সীমা কতদিন হবে, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। এর আগে তিনি দুই সপ্তাহের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষ করার কোনো নির্দিষ্ট সূত্র নেই। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস জেফ্রি বলেন, সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক প্রস্তাব—দুটিই একসঙ্গে ব্যবহার করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন কিছু নয়।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নজর রয়েছে, এই বাড়তি সময়ে আদৌ কোনো সমাধানের পথ তৈরি হয় কি না।
