ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সাম্প্রতিক নির্বাচনী ভরাডুবির পর প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। দলটির সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী Angela Rayner সতর্ক করে বলেছেন, এটি লেবারের জন্য “শেষ সুযোগ” হতে পারে।
স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে রেইনার বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় এবং দলকে আরও সাহসী নীতি নিতে হবে।
তিনি বলেন,
“আমরা এমন একটি দলে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে আছি, যারা শুধু সচ্ছল মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে, শ্রমজীবী মানুষের নয়। আমরা যা করছি, তা কাজ করছে না। পরিবর্তন আনতেই হবে। এটি হয়তো আমাদের শেষ সুযোগ।”
রেইনার সরাসরি নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ না করলেও তার বক্তব্যকে প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের প্রতি স্পষ্ট চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের মাধ্যমে নিজের নেতৃত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করবেন স্টারমার।
এদিকে Andy Burnham-কে আবার ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরিয়ে আনার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন রেইনার। তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরুতে বার্নহ্যামকে এমপি নির্বাচনে দাঁড়াতে না দেওয়া ছিল ভুল সিদ্ধান্ত।
স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি ইংল্যান্ডজুড়ে প্রায় ১,৫০০ কাউন্সিলর হারিয়েছে। পাশাপাশি ওয়েলসেও শত বছরের রাজনৈতিক আধিপত্য হারিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে দলটি। স্কটল্যান্ডে দলটি যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, যেখানে Keir Starmer-এর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রেইনার তার বিবৃতিতে আঞ্চলিক মেয়রদের আরও অর্থনৈতিক ক্ষমতা দেওয়া, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো এবং জনস্বার্থভিত্তিক মালিকানার নতুন মডেল চালুর আহ্বান জানান।
এদিকে লেবার এমপি Catherine West হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সোমবারের ভাষণের পরও যদি তিনি অসন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার চেষ্টা করবেন।
বর্তমানে সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে অ্যাঞ্জেলা রেইনার, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী Wes Streeting-এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
