আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বাহরাইনের মুহাররাক শহরের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। হামলায় ভবনের ওপরের তলার একটি ফ্ল্যাট সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেলেও সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, ইরান দাবি করেছে যে তারা রাতভর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। দেশটির দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর ছিল হামলার মূল লক্ষ্য। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, স্যাটেলাইট চিত্রে এসব স্থাপনায় একাধিক আঘাতের প্রমাণ মিলেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি অস্বীকার করেছে।
এর আগে শনিবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি পুনরায় হামলা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। তিনি কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন যে, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আর অস্তিত্বে থাকবে না।”
অন্যদিকে, ইসরায়েলও লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান এবং দক্ষিণ সিরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। রবিবার ইসরায়েল দাবি করেছে, দক্ষিণ সিরিয়ায় কয়েকজন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। এর একদিন আগে হিজবুল্লাহ লেবাননে বিদ্যমান শান্তি চুক্তিকে “বাতিল” ঘোষণা করে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
