সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ইসলামপুর ব্রাহ্মণগাঁওয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও দোয়া মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ইসলামপুর ব্রাহ্মণগাঁওয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এবং ফুলতলী ছাহেব কিবলা (রহ.) ও গ্রামের মরহুমদের ঈসালে ছওয়াব কামনায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শামছুল উলামা স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় ইসলামপুর ব্রাহ্মণগাঁও পূর্বপাড়ার মুন্সী ইনছান আলী জামে মসজিদে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, ওলামায়ে কেরাম, সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শামছুল উলামা স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ক্বারী শেখ ছালিক আহমদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহসভাপতি ক্বারী শেখ ইমাদ উদ্দিন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শামছুল উলামা স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাফেজ ক্বারী শেখ মইন উদ্দিন। কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, তাঁর মহান আদর্শ, মানবতার প্রতি তাঁর শিক্ষা এবং সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মাহফিলে ‘মিলাদুন্নবী কী এবং কেন’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা ছমির উদ্দিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্ম, জীবনাদর্শ, চরিত্র ও মানবতার জন্য তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য, মহানবী (সা.)-এর প্রতি উম্মতের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের গুরুত্ব এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।


আল্লামা ছমির উদ্দিন বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি, ন্যায়, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তাই নতুন প্রজন্মকে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ও ইসলামী শিক্ষায় গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

মাহফিলে স্থানীয় ওলামায়ে কেরামও বক্তব্য দেন। তাঁরা ইসলামী মূল্যবোধ সংরক্ষণ, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, নতুন প্রজন্মকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক অস্থিরতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।

তাঁরা মুসল্লিদের নিয়মিত নামাজ আদায়, কোরআন-হাদিসের শিক্ষা গ্রহণ, সুন্নাহর অনুসরণ এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে শামছুল উলামা স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সুফি মিয়াসহ হাজী বাবুল আহমদ, ক্বারী আজিজুর রহমান, ক্বারী ছাদিকুর রহমান, রফিকুর রহমান (ধন মিয়া মুন্সী), মো. ছানু মিয়া, আলী আহমদ, জয়নাল আবেদীন, মনকাব আলী, আইন উদ্দিন এবং শামছুল উলামা স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা শামছুল উলামা স্মৃতি ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার এবং ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা আরও বিস্তৃত হয়।

মাহফিলের শেষ পর্যায়ে ফুলতলী ছাহেব কিবলা (রহ.) এবং ইসলামপুর ব্রাহ্মণগাঁওয়ের সকল মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্বের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।