পানি ও জ্বালানি খাতে জননিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের

পানি ও জ্বালানিসহ জরুরি পরিষেবাগুলোর ওপর ‘আরও শক্তিশালী জননিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বছরের শেষের দিকে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথমবার হাউস অব কমন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের আরও বেশি অঞ্চলে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতিও দেন।

বার্নহাম বলেন, ১৯৮০-এর দশক থেকে যুক্তরাজ্য ‘একাধিক ভুল মোড়’ নিয়েছে। তার মতে, রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, অর্থনীতির বেসরকারিকরণ, শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির অবক্ষয় এবং কৃচ্ছ্রসাধন নীতির কারণে দেশ ও স্থানীয় সরকারগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে।

পানিসেবা খাতের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসরকারিকরণের ফলে পানি শিল্প এখন জনস্বার্থের বদলে বেসরকারি স্বার্থে পরিচালিত ব্যবস্থার ‘ফাঁস হওয়া স্মৃতিস্তম্ভে’ পরিণত হয়েছে। তবে তিনি সরাসরি পূর্ণ জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দেননি। পানি খাতের সংকট মোকাবিলায় ‘সব সম্ভাব্য সমাধান’ বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

বার্নহাম বলেন, পানিসেবা বেসরকারিকরণের পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে যাওয়া কঠিন হবে। এ কারণে কীভাবে জননিয়ন্ত্রণ বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা বছরের শেষের দিকে প্রকাশ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বাডেনক। তিনি বলেন, বার্নহামের পরিকল্পনার অর্থ হলো ‘আরও সরকারি নিয়ন্ত্রণ, আরও কর এবং আরও রাজনীতিবিদ’।

বাডেনকের অভিযোগ, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বার্নহামের মূল্যায়ন ভুল এবং প্রবৃদ্ধি নিয়ে তার ধারণাও বাস্তবসম্মত নয়। সরকারের ব্যয় বাড়ালেই মানুষের আয় ও সম্পদ বাড়বে—প্রধানমন্ত্রীর এমন ধারণা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

বার্নহামের বর্তমান দায়িত্বের সঙ্গে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে তার আগের ভূমিকার তুলনাও করেন বাডেনক। তার দাবি, মেয়র হিসেবে বার্নহামকে কঠিন আর্থিক ও রাজনৈতিক সমঝোতার মুখোমুখি হতে হয়নি; কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

গত ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী হন বার্নহাম। এর আগে প্রায় ১০ বছর পার্লামেন্টের বাইরে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। গ্রীষ্মকালীন অবকাশের পর মঙ্গলবার নতুন সংসদীয় অধিবেশন শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হাউস অব কমন্সে বক্তব্য দেওয়ার প্রথম সুযোগ পান তিনি।

সংসদে বার্নহাম বলেন, ‘ব্রিটেন এখন সেই অবস্থানে নেই, যেখানে আমরা দেশটিকে দেখতে চাই।’ তবে তিনি দেশজুড়ে নতুন আশাবাদ তৈরি এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে গতি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

দেশের বর্তমান সংকটের জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, অর্থনীতির বেসরকারিকরণ, শিল্পায়নের পতন ও কৃচ্ছ্রসাধন নীতিকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, ব্রেক্সিট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রবৃদ্ধি কমেছে এবং আঞ্চলিক পুনর্গঠন থমকে গেছে।

ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জরুরি পরিষেবায় জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া বার্নহাম সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে। তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকারি নিয়ন্ত্রণ কতটা বাড়বে এবং এর আর্থিক ব্যয় কী হবে, তা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে পড়েছে সরকার।