ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন কি না—মন্তব্য এড়ালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কি না—এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। তবে তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তিনি ব্যক্তিগতভাবে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শনিবার সকালে বিবিসির Sunday with Laura Kuenssberg অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্যার কিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত ওই অভিযানে যুক্তরাজ্যের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না। একই সঙ্গে তিনি জানান, অভিযানের বিষয়ে তিনি এখনো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেননি।

স্টারমার বলেন, “আমি সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একত্র করতে চাই। পরিস্থিতি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এখনো পুরো চিত্র আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।” তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মানার গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি একজন “আজীবন সমর্থক” এবং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই।

পরে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য সরকার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে একজন অবৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিবেচনা করে এবং তাঁর শাসনের অবসানে তারা দুঃখ প্রকাশ করে না। তিনি বলেন, “ভেনেজুয়েলার জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়—এমন একটি বৈধ সরকারের দিকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে যুক্তরাজ্য।”

যুক্তরাজ্য সরকার বর্তমানে কারাকাসে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাসের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় অবস্থানরত প্রায় ৫০০ জন ব্রিটিশ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর ভেনেজুয়েলায় সব ধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং দেশটিতে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রয়োজন হলে দ্রুত পরিকল্পনা পরিবর্তনের প্রস্তুতি রাখতে অথবা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলেছে।

সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক আইন প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে স্যার কিয়ার বলেন, “সব তথ্য হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি না। আগে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, এরপরই নেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।”

ভেনেজুয়েলার চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র: বিবিসি