নিয়োগ বাণিজ্যের মামলায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী কারাগারে

নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুনশী আব্দুল মজিদ আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ শফিউল আলম।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকিউরমেন্ট অফিসার আব্দুল মুনিম, সেকশন অফিসার রিঙ্কু দাস, চৌধুরী রুম্মান আহমেদ, লোকমান আহমেদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুরঞ্জিত রঞ্জন তালুকদার, রবিউল আলম বকুল, মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর রুহুল আমিন।

এদিন আসামিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) তদন্ত শুরু করে। তদন্তে তৎকালীন উপাচার্য মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নঈমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল দুদকের সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয় সাবেক উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারসহ মোট ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পরে একই বছরের ২৫ এপ্রিল আদালত সকল আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এর আগেও এই মামলায় সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।