টাওয়ার হ্যামলেটসে মেয়র লুৎফুর রহমান ও এসপায়ার পার্টির সাফল্য

— কে এম আবু তাহের চৌধুরী

২০২২ সালের ৫ মে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে টাওয়ার হ্যামলেটসের জনগণের সরাসরি ভোটে এসপায়ার পার্টি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। সেই নির্বাচনের পর গত চার বছরে টাওয়ার হ্যামলেটসে যে উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য।

মেয়র লুৎফুর রহমান এবং এসপায়ার পার্টির কাউন্সিলাররা দিনরাত জনগণের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মেয়র লুৎফুর রহমান তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের প্রায় ৯৬ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। নির্বাচনের পরপরই তাঁর এবং এসপায়ার পার্টির বিরুদ্ধে আগের মতোই নানা ষড়যন্ত্র শুরু হলেও অভিজ্ঞ মহলের মতে, এসব ষড়যন্ত্র এসপায়ারের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। বরং গত চার বছরের কাজের শক্তিশালী ট্র্যাক রেকর্ড আগামী মে মাসের নির্বাচনে এসপায়ার পার্টিকে আরও এগিয়ে নেবে।

মেয়র লুৎফুর রহমান ও তাঁর টিমের নেতৃত্বে যে উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলো অর্জিত হয়েছে, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।

কস্ট অব লিভিং ক্রাইসিস মোকাবিলা

১. নিম্ন আয়ের ও বেনিফিটভুক্ত বাসিন্দাদের মধ্যে ১০ মিলিয়ন পাউন্ড বিতরণ।

২. প্রথম বছর সব বাসিন্দার জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স ফ্রিজ রাখা এবং পরবর্তী বছরগুলোতে বার্ষিক আয় £৫০,৩৫০-এর নিচে যাদের, তাদের জন্য কস্ট অব লিভিং রিলিফ।

৩. ৪ হাজার পেনশনারকে শীতকালীন ফুয়েল পেমেন্ট হিসেবে £১৭৫ করে প্রদান এবং মিলস অন হুইল সার্ভিসে অতিরিক্ত বছরে £১ মিলিয়ন বরাদ্দ।

শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ

৪. সব প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুলে ফ্রি স্কুল মিল, যার ফলে গড়ে তিন সন্তানের পরিবার বছরে প্রায় £৫৫০ সাশ্রয় করছে।

৫. বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে £১,৫০০ গ্রান্ট, প্রথম বছর ৪০০ জন এবং পরবর্তীতে ৮০০ জন।

৬. কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য EMA গ্রান্ট, প্রথম বছর £৪০০ এবং পরবর্তী বছর থেকে £৬০০।

৭. রিসেপশন ও ইয়ার-৭ এর প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ফ্রি স্কুল ইউনিফর্ম।

৮. ২০টি ইয়ুথ সেন্টার চালু এবং ইয়ুথ সার্ভিসে £১৩.৭ মিলিয়ন বিনিয়োগ।

কালচার ও লেইজার সার্ভিস

৯. ১৬ বছরের বেশি বয়সী নারী ও ৫৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের জন্য ফ্রি সুইমিং। লেইজার সার্ভিস কাউন্সিলের অধীনে এনে £৪০ মিলিয়ন বিনিয়োগ। ইয়র্ক হল, মাইল এন্ড, হোয়াইটচ্যাপেলসহ বিভিন্ন লেইজার সেন্টারের আধুনিকায়ন।

১০. মার্কেট ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের জন্য এক ঘণ্টা ফ্রি পার্কিং এবং বিভিন্ন পারমিট স্কিম চালু।

আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা

১১. প্রায় ১,০০০ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও কন্ট্রোল রুম আপগ্রেডে মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ।

১২. লন্ডনের বৃহত্তম এনফোর্সমেন্ট টিম গঠন, ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন এবং ড্রাগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিম।

১৩. ২৬ জন পুলিশ অফিসার নিয়ে টাস্কফোর্স ও ডগ ইউনিট চালু।

পাবলিক সার্ভিস ও সামাজিক সুরক্ষা

১৪. মেয়র কমিউনিটি গ্রান্টের আওতায় ভলান্টারি ও কমিউনিটি সংগঠনে £৪.৫ মিলিয়ন বরাদ্দ।

১৫. লন্ডনের একমাত্র কাউন্সিল হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত বয়স্কদের জন্য ফ্রি হোম কেয়ার সার্ভিস চালু।

ক্লিন ও গ্রিন টাওয়ার হ্যামলেটস

১৬. ওয়েস্ট সার্ভিস উন্নয়নে £১৫ মিলিয়ন বিনিয়োগ ও ৭২ জন ফ্রন্টলাইন স্টাফ নিয়োগ।

১৭. পরিবেশ রক্ষায় ৩ হাজার গাছ রোপণ।

হাউজিং ও অবকাঠামো

১৮. ২২ হাজার কাউন্সিল হাউজিং সরাসরি কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণে আনা।

১৯. ৪ হাজার সোশ্যাল ও ফ্যামিলি সাইজের ঘর নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন, বহু ঘর ইতিমধ্যে হস্তান্তর।

২০. হোয়াইটচ্যাপেলে নতুন টাউন হল চালু করে বছরে £১৬ মিলিয়ন সাশ্রয়।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ

বাংলা স্কুল ও কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ সার্ভিস পুনরায় চালু, পার্ক ও প্লে জোন উন্নয়ন, রেসিডেন্ট হাব স্থাপন, মেয়রের নিয়মিত সার্জারি, ড্রাগ রিহ্যাব সেন্টার চালু, নারী সেন্টার প্রতিষ্ঠাসহ আরও বহু উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।

সব মিলিয়ে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কার্যক্রম আজ সারা ব্রিটেনেই প্রশংসিত। মেয়র লুৎফুর রহমান একজন পরিশ্রমী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা। তিনি সপ্তাহের সাত দিনই জনগণের জন্য কাজ করেন। এসপায়ার কাউন্সিলাররাও নিয়মিত জনগণের দরজায় গিয়ে তাদের সমস্যা শোনেন।

তবুও অতীতের মতো আবারও নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, যাতে মেয়র লুৎফুর রহমান ও এসপায়ার পার্টি পুনরায় ক্ষমতায় না আসতে পারে। টাওয়ার হ্যামলেটসের জনগণকে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই। আগামী দিনে কোন নেতৃত্বে পরিচালিত হবে টাওয়ার হ্যামলেটস, সেই ফয়সালা দেবে ভোটাররাই।