দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা ঘুচিয়ে সিলেটবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একযোগে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছেন সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী। অবহেলা আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে নবনির্মিত সিলেট জেলা হাসপাতাল। একই সাথে সিলেটে চীনা বিনিয়োগে ১ হাজার শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের মেগা হাসপাতাল এবং সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আরও একটি ১২০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। দুই মন্ত্রীর এমন যুগপৎ উদ্যোগে সিলেটের স্বাস্থ্যখাতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।
অবসান ঘটছে অপেক্ষার: চালু হচ্ছে ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল
নাগরিক ভোগান্তি কমাতে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল ‘সিলেট জেলা হাসপাতাল’। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও দীর্ঘ তিন বছর ধরে রহস্যজনক কারণে এটি চালু করা যায়নি। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল অবকাঠামোটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল, যা নিয়ে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ ছিল চরমে।
অবশেষে বিষয়টি নজরে আসায় দ্রুত পদক্ষেপ নেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর সরাসরি হস্তক্ষেপে সব আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর হয়েছে। জানা গেছে, শীঘ্রই এই ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
শুধু তাই নয়, সিলেটের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি ১২০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
এদিকে সিলেটের চিকিৎসা খাতে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আসছে চীনের অর্থায়নে ১ হাজার শয্যার একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে এই মেগা প্রকল্পটি নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও এবার তা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের অগ্রগতির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বিশেষ সফরে সিলেটে আসছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ রাত সোয়া ৯টায় সিলেট সার্কিট হাউজে চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি দলের সাথে ১ হাজার শয্যার এই হাসপাতাল নির্মাণের প্রাথমিক আলোচনা ও স্থান নির্বাচন সংক্রান্ত বৈঠক করবেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।সরেজমিন পরিদর্শনে মন্ত্রী ও চীনা প্রতিনিধি দল
প্রাথমিক বৈঠকের পরদিন, অর্থাৎ আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা (সিলেট-৪ আসন) এর গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করবেন মন্ত্রী ও চীনা প্রতিনিধি দল। উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের পর পরই দ্রুত হাসপাতালের অবকাঠামোগত কাজ শুরু হবে বলে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন।
আশার আলো দেখছেন সিলেটবাসী
দুই মন্ত্রীর এমন সমন্বিত এবং দ্রুতগতির উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত সিলেটের সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জেলা হাসপাতালটি চালু হলে মহানগরের ওপর রোগীদের চাপ কমবে। আর চীনের বিনিয়োগে ১ হাজার শয্যার হাসপাতালটি নির্মিত হলে সিলেট অঞ্চল শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্রে (মেডিকেল হাব) পরিণত হবে।
