নিউজ রিপোর্ট: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কার্যালয়ের ভেতরে হামলার ঘটনায় র্যাবের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি র্যাব–৭–এ কর্মরত বিজিবির নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন, যারা বর্তমানে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসামি ধরতে র্যাব–৭–এর ১৬ সদস্যের একটি দল জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালায়। র্যাব সূত্র জানায়, একটি মামলার সশস্ত্র আসামি ওই রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কার্যালয়ে লুকিয়ে আছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানটি পরিচালিত হয়।
র্যাবের চার সদস্য কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করার পরপরই ২০ থেকে ২৫ জন তাদের ঘিরে ফেলে এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে। হামলায় ঘটনাস্থলেই নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব মারা যান। আহত হন কনস্টেবল আরিফ, নায়েক ইমাম এবং র্যাবের একজন সোর্স।
র্যাব–৭–এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন বলেন, অপারেশন চলাকালে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভেতরে নিরীহ মানুষ থাকতে পারে—এই আশঙ্কায় র্যাব সদস্যরা গুলি ব্যবহার করেননি।
হামলার খবর পেয়ে র্যাবের অন্যান্য সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে সিএমএইচে ভর্তি করেন। ঘটনার পর সলিমপুর–লিংক রোডসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ টহল দিচ্ছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় ও সরকারি খাস জমি দখল, সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একটি অস্থির এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এসব দখলকৃত জমির বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বলে জেলা প্রশাসনের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগেও এই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের কার্যালয়টি সিলগালা করা হয়েছে। নিহত নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেবের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
