ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডন পবিত্র রমজান মাসকে স্বাগত জানাতে আবারও আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। টানা চতুর্থ বছরের মতো শহরের ওয়েস্ট এন্ডের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ৩০ হাজারেরও বেশি বাতি জ্বালানো হয়েছে, যা পুরো রোজার মাসজুড়ে সংস্কৃতি, খাবার ও সম্প্রদায়ের মিলনমেলার উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করছে।
রমজানের এই আলোকসজ্জার উদ্বোধন করেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। তিনি বলেন, এই আয়োজন শহরের ঐক্য, অন্তর্ভুক্তি ও বৈচিত্র্যের প্রতীক; এখানে সব ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে উদযাপনে যোগ দেন।
পিকাডিলি সার্কাস-এর কাছাকাছি কোভেন্ট্রি স্ট্রিট এলাকায় এ বছর আলোর ছাউনি আরও বড় পরিসরে সাজানো হয়েছে। আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা দাতব্য সংস্থা আজিজ ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন রমজানের আবহ অনুভবের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
এ বছর ‘শেয়ার্ড লাইট’ নামে একটি আন্তধর্মীয় শিল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে জেডওয়েল হোটেল-এ। এতে যুক্তরাজ্যের ২০ জন শিল্পী ভালোবাসা, শান্তি, উদারতা ও আশার মতো রমজানের মূল মূল্যবোধ তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি হালাল ও নিরামিষ খাবারের রেস্তোরাঁ, ইফতারের আয়োজন, নামাজের স্থান এবং সন্ধ্যার বিভিন্ন কার্যক্রম জানাতে একটি ডিজিটাল মানচিত্রও চালু করা হয়েছে।
২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪০ লাখ মুসলিম বাস করেন, যার মধ্যে লন্ডনেই ১০ লাখের বেশি। ইউরোপের বড় শহরগুলোর মধ্যে লন্ডনই প্রথম কেন্দ্রীয় সড়কে রমজানের আলো স্থাপন করে, যা এখন হানুক্কা ও দীপাবলির মতো উৎসবের পাশাপাশি শহরের বার্ষিক ক্যালেন্ডারের অংশ হয়ে উঠেছে।
এ বছর রমজান খ্রিস্টানদের লেন্ট মৌসুমের সঙ্গে মিলে গেছে, যা ৪০ দিনের প্রার্থনা ও সংযমের সময়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রমজান ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি শুরু হয়ে মার্চের মাঝামাঝি শেষ হওয়ার কথা। লন্ডনে মুসলমানরা প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা রোজা রাখবেন।
আয়োজকদের মতে, কেন্দ্রীয় লন্ডনে তরুণদের জন্য ইফতার আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করবে। রমজানের এই আলো কেবল ধর্মীয় উদযাপন নয়, বহুসংস্কৃতির সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবে লন্ডনের পরিচয়কে আরও দৃঢ় করছে।
