রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ

রমজান মাস ইবাদতের বসন্তকাল। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে ঈমানদারদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকা উচিত। কারণ এটি আমলের মাস, ইবাদতের মাস। মহান আল্লাহ বলেন,

“তোমাদের মধ্যে যে এ মাসে উপস্থিত হবে, সে যেন এতে রোজা পালন করে।” (সুরা বাকারাহ, আয়াত ১৮৫)

১. রোজা রাখা

রমজানের প্রধান ফরজ আমল হলো রোজা। এটি তাকওয়া অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।

২. সাহরি খাওয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“সাহরি বরকতময় খাবার। তাই তা ত্যাগ করো না; এক ঢোক পানি হলেও সাহরি গ্রহণ করো। কারণ সাহরি গ্রহণকারীদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা দোয়া করেন।” (মুসনাদে আহমাদ)

৩. সময়মতো ইফতার করা

ইফতারে বিলম্ব না করা সুন্নত। হাদিসে এসেছে,

“তোমাদের কেউ রোজা ভাঙলে সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে; না পেলে পানি দিয়ে, কারণ পানি পবিত্র।” (আবু দাউদ)

৪. তারাবি ও তাহাজ্জুদ আদায়

রমজানের রাতে কিয়ামুল লাইল অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

“যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম করে, তার অতীত গুনাহ ক্ষমা করা হয়।” (বুখারি)

৫. দান-সদকা বৃদ্ধি

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রমজানে নবী (সা.)-এর দানশীলতা আরও বেড়ে যেত। (মুসলিম)

৬. ইতিকাফ

রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। (মুসলিম)

৭. রোজাদারকে ইফতার করানো

“যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করায়, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পায়; রোজাদারের সওয়াব কমে না।” (মুসনাদ আহমাদ)

৮. তাওবা ও ইস্তিগফার

রমজান ক্ষমা লাভের বিশেষ সময়।

“যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও ক্ষমা পায়নি, সে ধ্বংস হোক।” (জামেউল উসুল)

৯. বেশি নেক আমল করা

বিশেষত শেষ দশকে ইবাদতে মনোযোগ বাড়ানো সুন্নত। আয়েশা (রা.) বলেন, নবী (সা.) শেষ দশকে রাত জেগে ইবাদত করতেন। (মুসলিম)

১০. অধিক জিকির

আল্লাহ বলেন,

“হে মুমিনরা, তোমরা আল্লাহকে বেশি স্মরণ করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো।” (সুরা আহযাব ৪১-৪২)

১১. কোরআন তিলাওয়াত ও শ্রবণ

রমজানে পারস্পরিক কোরআন পাঠ করা উত্তম। জিবরাইল (আ.) প্রতি রাতে নবী (সা.)-এর কাছে আসতেন এবং কোরআন শুনতেন। (বুখারি)

১২. কল্যাণকর কাজ বৃদ্ধি

রমজানে সৎকাজের সওয়াব বহুগুণ বাড়ে। প্রতি রাতে আহ্বান করা হয়—“হে কল্যাণপ্রার্থী, এগিয়ে এসো।” (তিরমিজি)

১৩. লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান

এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সুরা কদর ৪)

১৪. তাকওয়া অর্জন

রোজার মূল লক্ষ্য তাকওয়া।

“তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে… যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সুরা বাকারাহ ১৮৩)

১৫. বিবাদ ও অশ্লীলতা বর্জন

রোজাদারকে সব ধরনের মন্দ কথা ও ঝগড়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

“কেউ ঝগড়া করতে এলে বলবে—আমি রোজাদার।” (বুখারি)

১৬. বেশি দোয়া করা

রোজাদারের দোয়া কবুল হয়।

“তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না—রোজাদার, ন্যায়পরায়ণ নেতা, মজলুম।” (সহিহ ইবনু হিব্বান)

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে ইবাদত ও নেক আমলে পরিপূর্ণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।