জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদের ভেতরে জনগণের অধিকারের পক্ষে তাদের দল সবসময় সোচ্চার থাকবে। জনগণের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া হলে তারা সাধুবাদ জানাবেন এবং জনগণের অধিকার বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে শুধু সমর্থনই নয়, সক্রিয় সহযোগিতাও করবেন।
সোমবার রাজধানীতে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের কোনো অধিকার হরণ করা হলে তারা চুপ করে থাকবেন না। এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে। তিনি বলেন, “প্রতিবাদে কাজ হলে আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি কাজ না হয়, তাহলে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব। আমরা থামব না, ইনশাআল্লাহ। আমাদের লড়াই চলবে এবং এই লড়াই হবে জনতার বিজয়ের লড়াই।”
তিনি আরও বলেন, যারা একসময় নির্যাতিত ও মজলুম ছিলেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকায় কাজ করছেন, যা দুঃখজনক। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ইতিহাস থেকে কি কেউ শিক্ষা নেবে না? ইতিহাস কাউকে ছেড়ে কথা বলে না এবং তা বারবার ফিরে আসে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তারা বলেছিলেন দলের বিজয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চান। কিন্তু সেই বিজয় অর্জিত হয়নি এবং ভোটাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এখন বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিচার এখন জনতার আদালতে এবং সেই রায় জনগণের পক্ষেই আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বে যে অস্থিরতা চলছে, তাতে মুসলিম বিশ্বই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে যারা মানবতার বিরুদ্ধে কাজ করে, তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা মানবতার পক্ষেই আছি। কোন দেশ বা কোথায় তা হচ্ছে, সেটি দেখার বিষয় নয়। যেখানে মানবতা লঙ্ঘিত হবে, সেখানেই আমরা প্রতিবাদ জানাব।”
শেষে তিনি মানবতা ও মনুষ্যত্বের বিজয় কামনা করেন।
