সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। ঈদের তৃতীয় দিন শনিবারও সকাল থেকেই পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, শুক্রবারের তুলনায় শনিবার পর্যটকের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুর মিয়া জানান, শুক্রবার প্রায় ১৫ হাজার পর্যটক সাদাপাথর এলাকায় ঘুরতে এসেছিলেন। শনিবার সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, আগের দিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পর্যটকের সমাগম হতে পারে।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে সাদাপাথর দেখতে আসছেন পর্যটকেরা। বরিশাল থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা নুরুজ্জামান বলেন, “দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কিছুটা ক্লান্ত ছিলাম। কিন্তু সাদাপাথরের স্বচ্ছ পানিতে নামার পর সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।”
তবে পর্যটনকেন্দ্রের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন অনেকেই। নুরুজ্জামান বলেন, ভেজা কাপড় পরিবর্তনের জন্য মাত্র কয়েকটি অস্থায়ী বুথ রয়েছে, যা পর্যটকদের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এছাড়া প্রয়োজনীয় লাইফ জ্যাকেট ও টিউবের ব্যবস্থাও নেই।
ঢাকা থেকে আসা কলেজশিক্ষার্থী আবির হাসান বলেন, “সাদাপাথরের সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। পাশের ভারতের পাহাড় এই সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। পানিতে নেমে পাহাড় দেখা আর সেই মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরে রাখা দারুণ অনুভূতি।”
এদিকে পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে হোটেল-রিসোর্টগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে। সাদাপাথর হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের সিইও মোহাম্মদ রামীম আহমদ জানান, ঈদের পরদিন থেকে টানা তিন দিনের জন্য তাদের সব কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। অনেক আগ্রহী পর্যটক যোগাযোগ করলেও কক্ষ খালি না থাকায় ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন চন্দ্র কর্মকার বলেন, ঈদের ছুটির পুরো সময় সাদাপাথর এলাকায় নিয়মিত টহল ও বিশেষ নজরদারি থাকবে। গত দুই দিনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা সাদাপাথর এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তবে দর্শনার্থীদের সুবিধা ও নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
