লন্ডন প্রতিনিধি: লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা। অনুষ্ঠানের অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ড. সালেহ শিবলী। সাংবাদিকতা থেকে দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি উপস্থিত সাংবাদিক ও অতিথিদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের ভূমিকা, তথ্যপ্রবাহের চ্যালেঞ্জ এবং সরকারের যোগাযোগ কৌশলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি তাদের মতামত ও প্রশ্ন তুলে ধরেন, যার উত্তর দেন ড. সালেহ শিবলী।
গত রোববার বিকেলে ক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে অতিথিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আকরাম হুসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ক্লাবের বিপুলসংখ্যক সদস্য অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে অনেকে বার্মিংহাম, লুটনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে ড. সালেহ শিবলী লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের একজন সদস্য ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সাপ্তাহিক পত্রিকায় কাজ করেছেন এবং চ্যানেল এস-এর এক্সিকিউটিভ এডিটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে তার অনেক সাবেক সহকর্মী ও সাংবাদিক বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল আহমদ, সৈয়দ নাহাস পাশা, মুহাম্মদ জুবায়ের এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি তাইসির মাহমুদসহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে ড. সালেহ শিবলী বলেন, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা হাইকমিশনার ও প্রেস মিনিস্টারের পদে খুব শিগগিরই নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রবাসীরা অচিরেই নতুন হাইকমিশনার ও প্রেস মিনিস্টার পাবেন।
প্রবাসী কার্ড বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রবাসীদের হাতে প্রবাসী কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
রামিসা হত্যা মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলার বিচার জুন মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে কোনো সাংবাদিককে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনা সম্পর্কে ড. শিবলী বলেন, দেশে ও বিদেশে বসবাসরত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কোনো প্রবাসী অন্যায় বা বৈষম্যের শিকার হলে তিনি যেন দ্রুত আইনগত সহায়তা পান, সে বিষয়েও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। কোথাও সুবিচার না পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় প্রবাসী সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি সরকারের সঙ্গে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা মুক্ত, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশ-বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পায়।
