পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নিধন’! ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে ‘অবৈধ’ বলল ব্রিটেন

ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে ‘জাতিগত নিধন’ চলছে: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ও বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে নজিরবিহীনভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের মতে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অব্যাহত দখলদারিত্ব আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং অঞ্চলটির বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও ভূমি দখলের ঘটনা গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সংসদে দেওয়া বক্তব্যে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের তীব্র সমালোচনা করেন।

‘বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধ করতে হবে’

মিলিব্যান্ড বলেন, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা এবং তাদের নিজ ভূমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার কারণে পশ্চিম তীরে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

দখলদারিত্ব নিয়ে বদলাচ্ছে ব্রিটিশ অবস্থান

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে মনে করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দখলদারিত্ব, বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের বিষয়ে লন্ডনের বক্তব্য আরও কঠোর হয়েছে।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অব্যাহত উপস্থিতিকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মত দিয়েছিল।

ইসরায়েলের ওপর বাড়ছে আন্তর্জাতিক চাপ

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল, বসতি স্থাপন এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনায় ইসরায়েলের ওপর একের পর এক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা চাপ বাড়াচ্ছে।

যুক্তরাজ্যও ইতোমধ্যে উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে নতুন বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের আরও কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্ক ও নীতিগত অবস্থান নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

ফিলিস্তিনিদের অধিকার, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের অবস্থান আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র বিবিসি