হবিগঞ্জে এনসিপির দুই শীর্ষ নেতার গাড়িবহরে হামলা, সারজিস আলমকে উদ্ধার করল পুলিশ

হবিগঞ্জ, মঙ্গলবার: হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর সারজিস আলম সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় আশ্রয় নিলে সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের টাউনহল প্রাঙ্গণে এনসিপির একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একটি জিপে করে সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা দিলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। চালক দ্রুতগতিতে গাড়িটি সার্কিট হাউসে নিয়ে যান।

এর কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িতেও হামলা ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তার গাড়ি শহরের সোনালী ব্যাংকের একটি কার্যালয়ে আশ্রয় নেয়। এ সময় এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হলে শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

সারজিস আলম ব্যাংকে অবস্থান করছেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ব্যাংকটি ঘেরাও করেন। পরে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। তিনি বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন। সার্কিট হাউসের বাইরেও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।

এদিকে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া এনসিপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন এনসিপির নেতারা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, এনসিপির নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সেই পরিস্থিতিরই প্রতিক্রিয়া হিসেবে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।