লন্ডন বাংলা টাইমস | অনলাইন:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে নতুন বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন Chris Doyle। Council for Arab-British Understanding (সিএএনিইউ)-এর পরিচালক আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের হাতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা দেশটির মর্যাদা ও কৌশলগত অবস্থানের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে Iran দেখাতে চেয়েছে যে তারা United States-এর মতো পরাশক্তির সামরিক প্রভাবের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। তিনি বলেন, ইরান সমানভাবে এবং অপ্রতিসম উভয় ধরনের কৌশল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
ডয়েল উল্লেখ করেন, কয়েক সপ্তাহ আগেও এই সংঘাত দ্রুত শেষ হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump মিত্রদের সহায়তা প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।
তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসের ভেতরে বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত মিলছে এবং Pentagon-এও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্তগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে, মার্কিন নেতৃত্ব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সাধারণত ‘মিশন ক্রিপ’ বা লক্ষ্য সম্প্রসারণ দেখা গেলেও এবারের পরিস্থিতি আলাদা বলে মন্তব্য করেন তিনি। ডয়েলের ভাষায়, এখানে বরং ‘মিশন সংকোচন’ ঘটছে—যেখানে শুরুতে শাসন পরিবর্তনের কথা বলা হলেও এখন তা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
তার মতে, এটি একটি দিকনির্দেশনাহীন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেয়। বিপরীতে, ইরান তুলনামূলকভাবে সুসংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে তাদের কৌশল পরিচালনা করছে।
ডয়েল আরও বলেন, ইরান চাইলে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়াতে পারে। সাম্প্রতিক হুথি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এই সংঘাত বিস্তারের সক্ষমতা ইতোমধ্যেই প্রদর্শন করেছে তারা।
শেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি দ্রুত পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাগুলো সেই দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
